খোঁজ করতে চান ?

যারা প্রতিদিন রাতে উন্নয়নের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমাতে যান লেখাটি তাদের জন্যে।


আমি জার্মানির দক্ষিণ থেকে যত উত্তরে গিয়েছি ততই অবাক হয়েছি, একটা দেশ একই রকম গায়ের চামড়া কিন্তু বহু মত ও পথের মানুষের সমাহার এই দেশে। দক্ষিনের মানষু গুলো অতীব ব্যাস্ত থাকে এদের জীবন দৌড়ের উপর থাকে। এর পর যতই উত্তরে এগুতে থাকবেন তত কমব্যাস্ত মানুষের দেখা পাবেন। আমি যে স্টেট এ থাকি এখানে সবচেয়ে কম মানুষ থাকে এবং অর্থনৈতিক ভাবে জার্মানের দুর্বলতম রাজ্য। এই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো খরচ করতে চেয়েছিল।


এখানে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এখানকার সাধারণ জনগণ। কেন তারা এই উন্নয়নের বিরোধী? সরকারের ইচ্ছা ছিল ট্রেন, বাস ও গাড়ির পরিমাণ বাড়ানো, যোগাযোগ ব্যাবস্থান উন্নয়ন করা যাতে করে বেশি পর্যটক এই এলাকায় আসে। কিন্তু সাধানর জনগণ এর বিরুদ্ধে চলে যায়। কারন এখানে বেশি উন্নয়ন করলে তাদের শান্তির পরিবেশ নষ্ট হবে। তারা চায় না বেশি মানুষ এসে গ্যাঞ্জাম করুক আর এখানকার অর্থনীতি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পরুক। এদের মধ্যে আমারিকানদের মত খাম খাম স্বভাব নেই, যা আছে তাই নিয়ে সুখী থাকতে চায়। এখানে বেশি মানুষ আসলে স্থানীয় মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাবে কেননা যারা বাইরে থেকে আসবেন তাদের টাকা খরচ করতে দ্বিধা থাকবে না ফলশ্রুতিতে তাদের নিজেদের স্বভাবিক বাজার পরিস্থিতি উলট পালট হয়ে যাবে। অন্যদিকে বেশি মানুষ আসলে স্থানীয় মানুষ আবাসন সংকটে ভুগবে, সর্বপরি পরিবেশ এর উপর ব্যাপক চাপ পড়বে। এরা শান্তি চায় কিন্তু অভিশাপের উন্নয়ন চায় না।


আমার জানামতে এখানকার বাতাস সবচেয়ে বেশি বিশুদ্ধ, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এখানে আসার পর আমার একবারের জন্য কাশি হয় নি, অথচ বার্লিনে ঢুকার সময় মনে হয় নিজের দম বন্ধ হয়ে গেল। মানুষের এই বিরোধীতার কারনে সরকার সেই প্রস্তাব থেকে সরে এসে মেডিক্যাল ট্যুরিজম এর উপর জোর দিয়েছে, যাতে করে অসুস্থ মানুষ এই এলাকায় এসে চিকিৎসা ও বিনোদন এবং সময় কাটানোর কাজ করতে পারে। এজন্য সরকার জার্মানির বেশিভাগ গবেষণা প্রতিষ্টান, শিক্ষা প্রতিষ্টান, ও মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট এই এলাকায় করার প্রস্তাব করেছে। এই এলাকার মানুষ কেন বিরোধিতা করেছে এর জ্বলজ্যান্ত প্রমান ইতালির ভ্যানিস শহর, যেখানকার স্থানীয় মানুষ নিজ এলাকায় পরবাসী। পর্যটক তাড়াতে এখন তারা রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। দেশে এত উন্নয়ন হলে রাতে কোটি কোটি মানুষ ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমায় কেন?


আমি সেই উন্নয়নের পক্ষে না যে উন্নয়ন মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়, যে উন্নয়ন পরিবেশ নষ্ট করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে, যে উন্নয়ন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। উন্নয়ন সবসময় আর্শিবাদ হয়ে আসে না বরং অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।