খোঁজ করতে চান ?

কবে পাবে পথের দীশা



বাংলাদেশ এক সংকটপুর্ন্য সময় অতিবাহিত করছে। বেশি ভাগ মানুষ ই এখন হতাশা গ্রস্থ ও নিরুপায়। এক দল মানুষ বিত্ত আর বৈভবের জৌলুস ছড়াচ্ছে আরেক দল শুধুই অপ্রাপ্তির দীর্ঘস্বাস ফেলছে। কোন এক অজানা কারন তাড়া করে বেড়াচ্ছে সবাই কে। পঙ্গপালের মত করে বিত্তের মোহে আবিষ্ট হয়ে হাড়াচ্ছে নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাস। মানুষ আজ দিকভ্রান্ত ও দিশাহীন। মানুষের প্রপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তির তালিকা টা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ঠিক কোন কারনে মানুষের আজ এই পরিনতি? তিনটি পরস্পর বিপরীত মুখী শক্তির কারনে মানুষ আজ দিকভ্রান্ত। অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা, পুঁজিবাদী অর্থনিতী ও ইসলামিক সমাজ ব্যাবস্থা এই তিনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মানুষ দিকভ্রান্ত। গণতন্ত্র হচ্ছে পুঁজিবাদের ধারক ও বাহক, গণতন্ত্রের মাধ্যমেই সারাবিশ্বে পুঁজিবাদ বিস্তার লাভ করেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যাবস্থার অর্থনৈতিক হাতিয়ার হচ্ছে পুঁজিবাদ। বুর্জোয় শ্রেনী এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির দল সমুহের অর্থের যোগানদাতা।


ব্যাবসায়ীরা সবসময় নিজেদের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের আইনপ্রনেতাদের ব্যাবহার করে। ব্যাবসায়ী শ্রেনীকে সুবিধা জনক অবস্থানে রেখে আইনপ্রনেতারা আইন প্রনয়ন করে ফলে সেই আইন ব্যাবস্যায় সুবিধা জনক হলেও জনগনের খুব একটা সুবিধা হয় না। পুঁজিবাদী চেতনা মানুষ কে মানুষ হিসেবে বিবেচনা না করে কঞ্জিউমার বা ভোক্তা হিসেবে গন্য করে অন্যদিকে শ্রমিকরা হচ্ছেন উৎপাদক যা এখন আধুনিক দাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভোক্তা এবং উৎপাদক এর মধ্যে উপকারভোগী হচ্চে এই ব্যাবসায়ী শ্রেণি, এরা সকল রাষ্ট্রেই সুবিধাভোগী। এই সুবিধাভোগী শ্রেণির ইশারাতে আমার আপনার ভাগ্যে পরিবর্তিত হয়। এই সুবিধাভোগী শ্রেনী তাদের প্রয়োজনে রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের ব্যাবসায়িক সুবিধা অনুযায়ী সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতির কাঠামো পুন্যবিন্যাস করা হয়। এই সব কাঠামো সঠিক ভাবে পুনঃবিন্যাস করার জন্য প্রয়োজন হয় শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা। বাংলাদেশে যখন কোন অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা সমাজে পুঁজিবাদী অর্থনিতি প্রচলন শুরু করেছে ঠিক তখন থেকেই সমাজে অস্থিরতা, বিসৃংখলা, মানুষের হতাশা ও অনাচারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কারন, বাংলাদেশের বেশি ভাগ মানুষই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। ইসলাম শুধু যে একটি ধর্ম বিশ্বাস তা নয় ইসলাম হচ্ছে গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ এর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।


ইসলাম ধর্মের নিজেস্ব অর্থণৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাবস্থা আছে। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের বনিকরা। এই বনিকদের হাত ধরেই বিশ্বের বিভিন্নস্থানে ইসলাম ধর্ম প্রচারে সুবিধা পেয়েছিল পীর-পয়গম্বর। ব্যবসার প্রয়োজনে নতুন নতুন বাণিজ্যিক রাস্তা বের করার জন্য ভূগোলবিদ্যার প্রসার ঘটেছিল আরব রাষ্ট্রগুলিতে। এরপর জ্যোতি শাস্ত্র, গণিত, পদার্থবিদ্যা, সাহিত্য ইত্যদির জ্ঞান চর্চার বিকাশ লাভ করে। ফলশ্রুতিতে আরব বণিকদের ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। ব্যবসার সম্প্রসারনের সাথে সাথে ইসলামিক সংস্কৃতি ও ধর্মের বিস্তার লাভ করতে থাকে। আরব বণিক রা যেখানেই গিয়ে ছিল সেখানেই তাদের ভাষা ও ধর্মের বিস্তার ঘটিয়েছে। বাণিজ্য শুধুই যে বাণিজ্য তা কিন্তু নয় এর সাথে জড়িত আছে সংস্কৃতি ও সামজ। যে কোন বাণিজ্য ব্যাবস্থাই বাণিজ্য বিস্তারের আগে বিস্তৃতি ঘটায় সংস্কৃতির।


ইউরোপের রেনেসাঁস এর সময় কাল থেকে পুঁজিবাদ এর সূত্রপাত হয়, ঠিক সেই সময় থেকেই ইউরোপ ব্যাপক শিল্পায়ন, বিজ্ঞানের অগ্রগতি, সাহিত্য-সংস্কৃতির অগ্রগতি, মানবতাবাদ-গণতন্ত্র, সাম্য-মৈত্রী, স্বাধীনতা এইসব ঘোষণা নিয়ে পুঁিজবাদ মানবজাতির সামনে উপস্থিত হয়েছিল। খুব দ্রুতই ইউরোপিয়ান রা বাণিজ্য করার উদেশ্যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুঁজিবাদ ও গনতন্ত্রের বানী প্রচার করতে থাকে। ইউরোপে যখন পুঁজিবাদ পুর্ন্যউদ্যমে তখন এর বিরোধীতা করে সৃষ্টি হয় সমাজতন্ত্রের। পুঁজিবাদের ঘরে জন্ম নেওয়া সমাজতন্ত্র পুঁজিবাদের চাপের ফলে খুব বেশি বিস্তার লাভ করতে পারে নি। আরবের অনেক মুসলিম দেশ পুঁজিবাদের প্রভাব থেকে নিজেদের বাচাতে আশ্রয় নিয়েছিল সমাজতন্ত্রের ছাতার নিচে আবার কেউ কেউ চলে গিয়েছিল স্বৈরতন্ত্রের দিকে, ফলে মধ্যপ্রচ্যে পুঁজিবাদের বিস্তার করা খুব সহজে হয়ে উঠেনি।



স্বাভাবিক ভাবে মুসলিমরা overconsolidated ফলে তারা অন্যের দেওয়া নিয়ম কানুন খুব সহজে গায়ে মাখতে চায় না বা মাখায় না। অন্যদিকে নিজেদের ধর্মবিশ্বাস ও হারানোর ভয়ে ভীত।ফলে মুসলিম দেশ গুলোতে পুর্ন্য-পুজিবাদ চালু করতে হলে Preconsolidation pressure এর চাইতেও বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপের ফলে মুসলিম দেশ গুলো ভেঙ্গেচুরে Resettlement এ চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা, পুঁজিবাদী অর্থনিতী ও ইসলামিক সমাজ ব্যাবস্থা এই তিনের চাপের ফলে সৃষ্ট টর্কের ভিতর অবস্থান কারী জনসাধারণ চাপ সহ্য করতে না পেরে আজ দিকভ্রান্ত ও দিশাহীন।